Saturday, June 25, 2022

হামলার শিকার হলে রাশিয়ার বিরুদ্ধে লড়তে প্রস্তুত ফিনল্যান্ড

হেলসিঙ্কি, ২২ জুন – ইউরোপের দেশ ফিনল্যান্ডের সশস্ত্র বাহিনীর প্রধান টিমো কিভিনেন বলছেন, রাশিয়ার হামলার জন্য ফিনল্যান্ড কয়েক দশক ধরে প্রস্তুতি নিয়েছে এবং যদি তা ঘটে তবে ব্যাপক প্রতিরোধ গড়ে তোলা হবে।

তিনি বলেন, নর্ডিক দেশগুলো উল্লেখযোগ্য অস্ত্র তৈরি করেছে। খবর রয়টার্সের।

১৯৪০ এর দশকে দুইবার রাশিয়ার বিরুদ্ধে লড়েছে ফিনল্যান্ড। দেশটির সঙ্গে রয়েছে ১৩০০ কিলোমিটার (৮১০ মাইল) সীমান্ত।

বহুদিন ধরে নিরপেক্ষ অবস্থান বজায় রাখা দেশটি সাম্প্রতিক সময়ে ন্যাটোতে যোগ দেওয়ার জন্য আবেদন করেছে। তাদের উদ্বেগের কারণ হচ্ছে, ইউক্রেনে ২৪ ফেব্রুয়ারি যেভাবে হামলা চালিয়েছে রাশিয়া ফিনল্যান্ডেও সেভাবে হামলা চালানো হতে পারে। তবে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর থেকে হেলসিঙ্কি উচ্চ সামরিক প্রস্তুতি বজায় রেখেছে।

ফিনিশ জেনারেল কিভিনেন এক সাক্ষাৎকারে বলেন, আমরা পদ্ধতিগতভাবে আমাদের সামরিক প্রতিরক্ষাকে উন্নত করেছি। ইউক্রেনের বিরুদ্ধে লড়তে কঠিন পরিস্থিতিতে পড়েছে রাশিয়া, ফিনল্যান্ডের বিরুদ্ধেও তাই হবে।

সোভিয়েত ইউনিয়নের বিরুদ্ধে দুইবারের লড়াইয়ে এক লাখের মতো ফিনিশীয় নাগরিক নিহত হয়েছেন। আর এক দশমাংশ ভূখণ্ড হারিয়েছে হেলসিঙ্কি।

৫৫ লাখ মানুষের দেশটিতে যুদ্ধকালীন সেনার সংখ্যা দুই লাখ ৮০ হাজার। এ ছাড়া প্রশিক্ষণ পাওয়া রিজার্ভে থাকা সেনার সংখ্যা ৮ লাখ ৭০ হাজার।

দেশটি ইউরোপের অন্যতম শক্তিশালী আর্টিলারি এবং ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্রের মালিক। এ ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্রের পাল্লা ৩৭০ কিলোমিটার পর্যন্ত (২৩০ মাইল)। হেলসিঙ্কি জিডিপির দুই শতাংশ প্রতিরক্ষা খাতে খরচ করে। যা ন্যাটোভুক্ত অনেক দেশের চেয়ে বেশি। দেশটি যুক্তরাষ্ট্রের কাছ থেকে নতুন চারটি যুদ্ধজাহাজ ও ৬৪টি এফ-৩৫ ফাইটার জেট কিনতে যাচ্ছে। এ ছাড়া দুই হাজারের বেশি ড্রোনও কেনার পরিকল্পনা করছে হেলসিঙ্কি।

১৮ মে প্রকাশিত প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের এক জরিপে দেখা যায়, প্রায় ৮২ শতাংশের মতো অংশগ্রহণকারী দেশের সুরক্ষায় অংশ নিতে প্রস্তুত যদি ফিনল্যান্ড আক্রান্ত হয়।

এদিকে ন্যাটোতে যোগ দেওয়ার জন্য যে আবেদন করেছে ফিনল্যান্ড তাকে স্বাগত জানিয়েছেন কিভিনেন। আবেদন করেছে সুইডেনও। তবে তাদের এ জোটে নেওয়ার বিরোধিতা করছে তুর্কিয়ে। এ বিষয়ে সুইডেন ও ফিনল্যান্ড আঙ্কারার সঙ্গে আলোচনা করছে। আঙ্কারার রাগের কারণ, হেলসিঙ্কি ও স্টকহোম কুর্দিশ জঙ্গিদের সমর্থন করে।

কিভিনেন বলেন, ন্যাটো সদস্যপদ ফিনল্যান্ডকে জোটের যৌথ আকাশসীমা নিয়ন্ত্রণের অংশ হয়ে তার প্রাথমিক সতর্কতা ক্ষমতা বাড়ানোর অনুমতি দেবে। জোটের অংশ হওয়ার পর ফিনল্যান্ড অপর সুবিধাটি পাবে জোটের এক দেশ আক্রান্ত মানে সব দেশ আক্রান্ত নীতি থেকে।

তবে, ফিনল্যান্ডকে রক্ষার মূল দায়িত্ব এখনও ফিনল্যান্ডই বহন করবে বলে জানান এ জেনারেল।

সূত্র: সমকাল
এম ইউ/২২ জুন ২০২২

এ রকম আরো কিছু খবর

Most Popular